ঢাকাসোমবার , ২১ নভেম্বর ২০২২
সর্বশেষ সংবাদ

২৫ নভেম্বর প্রেক্ষাগৃহে আসছে বীরকন্যা প্রীতিলতা

এস এম সোহেল, ঢাকা।
নভেম্বর ২১, ২০২২ ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক অনুদানে কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস ‘ভালোবাসা প্রীতিলতা’ অবলম্বনে ‘বীরকন্যা প্রীতিলতা’ চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে। ২৫ নভেম্বর ২০২২ প্রেক্ষাগৃহে আসছে বীরকন্যা প্রীতিলতা । ২০১৯-২০ অর্থবছরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুদান পায় চলচ্চিত্রটি।

করোনা মহামারির কারণে চলচ্চিত্রটির নির্মাণ কাজ শুরু থেকেই বাধাপ্রাপ্ত হয়। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য যে সময় বেঁধে দেয়া হয় তা পুরণ করা সম্ভব হয়নি। আনুষ্ঠানিক ভাবে তিন দফায় সময় বর্ধিত করার জন্য আমরা আবেদন করেছিলাম সরকারের কাছে। উপযুক্ত যুক্তি উপস্থাপন করার কারণে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আমাদের সময় বর্ধিত করে সহযোগিতা করেছে।

এ চলচ্চিত্রের নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ৯৬ লক্ষ টাকা। যা এ ধরণের ইতিহাস নির্ভর ছবি নির্মাণের জন্য কোন বড় বাজেট নয়। সরকারের অনুদানের ৫০ লক্ষ টাকার দুই কিস্তির ৬০ শতাংশ অর্থাৎ ৩০ লক্ষ টাকা নিয়ে এবং বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট থেকে ঋণ গ্রহণ করে ছবির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

এ চলচ্চিত্রে প্রীতিলতার চরিত্রে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা এবং বিপ্লবী রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের চরিত্রে অভিনয় করেছেন মনোজ প্রামাণিক। মাস্টারদা সূর্যসেন চরিত্রে অভিনয় করেছেন কামরুজ্জামান তাপু। কল্পনা দত্ত চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইন্দ্রাণী ঘটক। সংগীত পরিচালনা করেছেন শিল্পী বাপ্পা মজুমদার। সংগীতে কণ্ঠ দিয়েছেন দিলশাদ নাহার কনা, এলিটা করিম ও অন্তু আহমেদ। সমবেত কন্ঠে গান করেছেন পাপড়ি বড়ুয়া, নবনীতা দত্ত ও শুভ্রা আচার্য্য। চলচ্চিত্রে মোট ৫টি গান সংযোজিত হয়েছে। ঐতিহাসিক পটভূমিতে নির্মিতব্য এই চলচ্চিত্রটিকে আমরা বলতে চেয়েছি রিয়েল প্লেস মুভি, কারণ ছবিটির শুটিং হয়েছে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোতে। আমরা স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে সচেতন ভাবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকাকে বেছে নিয়েছি যে সকল এলাকায় এই বিপ্লবীরা অবস্থান করেছিলেন, গোপন আস্তানা গড়ে তুলেছিলেন এবং লড়াই পরিচালনা করেছিলেন। যে ইউরোপিয়ান ক্লাব হামলায় বীরকন্যা প্রীতিলতা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ঠিক সেখানটাতেই আমরা শুটিং পরিচালনা করেছি।

চলচ্চিত্রের প্রচারণার বিষয়ে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের শৈশবের স্কুলকে। তাই চট্টগ্রামের ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রচারণার কাজ শুরু করি। ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ছিল প্রীতিলতার প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯১৮ সালে তিনি এই স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন। যে স্কুল প্রীতিলতার শৈশবের বিপ্লবী চেতনার সুতিকাগার সেখান থেকেই শুরু করেছি প্রচারণা। চট্টগ্রামের পাশাপাশি ঢাকায় ইডেন কলেজ থেকে শুরু করেছি ঢাকার প্রচারণা। কারণ ১৯২৬ সালে মেট্রিকুলেসন পাস করার পরে আই.এ. পড়ার জন্য বীরকন্যা প্রীতিলতা ঢাকার ইডেন কলেজে ভর্তি হন। এই কলেজ থেকে আই.এ. পরীক্ষায় তিনি মেয়েদের মধ্যে প্রথম এবং সম্মিলিত মেধা তালিকায় পঞ্চম স্থান অধিকার করে ২০টাকা বৃত্তি পেয়ে কোলকাতায় বেথুন কলেজে পড়তে যান। ইতিহাস নির্ভর এই চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে আমরা গবেষণাকে প্রাধান্য দিয়েছি, যাতে করে গল্প বলার ছলে বড় কোন ভ্রান্তির জন্ম না হয়। আমাদের লক্ষ্য নতুন প্রজন্ম বীরত্বগাথা এই আত্মদানের কাহিনীকে জানুক। নিজেদের হৃদয়ে শক্তি ও সাহস সঞ্চয় করুক। এ কারণেই এই চলচ্চিত্রটি দেখতে বেশি করে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে চেয়েছি। প্রচারণায় শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ-পাস চালু করেছি। যা বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাসে নতুনত্বের সংযোজন।

আগামী ২৫ নভেম্বর থেকে প্রাথমিক ভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তি পাবে। এর মধ্যে স্টার সিনেপ্লেক্স, ব্লকবাস্টার সিনেমাস এবং সিলভার স্ক্রিন সিনেপ্লেক্স চট্টগ্রাম। ছবিটির শুভমুক্তি উপলক্ষে মাননীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি. প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে আমাদের নিশ্চিত করেছেন।

ডিসেম্বরে বড় পরিসরে দেশের বিভিন্ন হলে আমরা ছবিটি চালাবো। এছাড়াও যে সকল হল মালিকেরা শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ-পাস দিতে রাজি হবেন না, সেক্ষেত্রে আমরা বিকল্প হিসেবে নিজেদের উদ্যোগে মিলনায়তন ভাড়া নিয়ে ছবি দেখাবো।

পরিশেষে আমরা বলতে চাই, এটি শুধুমাত্র একটি চলচ্চিত্র হিসেবে আমরা দেখতে চাই না। এটি একটি আন্দোলন। একটি জাতির ইতিহাস সচেতন হবার আন্দোলন। আশা করি আপনারা এই আন্দোলনের যোদ্ধা হিসেবে ইতিহাসের ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করবেন। মাত্র ২১ বছর বয়সে যে প্রীতিলতা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে মাতৃভূমির জন্য তার সাহসী রক্তের উত্তরাধিকার আমরা। এই মহান শহীদের স্মৃতি যেনো হারিয়ে না যায় তারই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা আমাদের বীরকন্যা চলচ্চিত্রটি।