মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: আমাদের এই দেশ কৃষি প্রধান বাংলাদেশের সোনালী ফসল পাট বিশ্ব জুড়ে নাম ডাক থাকলেও সেই আদি সুনাম নষ্ট হতে বসেছে। চাষিরা দিন দিন এই চাষাবাদ থেকে হাত গুটিয়ে নিচ্ছেন। এবার কৃষকরা পাট চাষ করলেও একদিকে চাহিদা মতো দাম নেই অপরদিকে পাট ধুতে শ্রমিক খরচ বেশি হওয়ায় ধুতে পারেননি অনেক চাষি।
জানা গেছে, দেশের উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে চাহিদা অনুযায়ী এবার সে রকম পাটের চাষাবাদ হয়নি। গত বছরের চেয়ে এবার তুলনামূলক ভাবে কম চাষ হয়েছে।
আর বিভিন্ন কারণে চাষি এই চাষাবাদ থেকে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের মকড়া ঢঢ গাছ এলাকার চাষি আমিনুল ইসলাম বলেন, ৬০ শতক জমিতে পাট চাষ করেছি, একটি করে পাটের বোজা ধৃতে ১০/১২ টাকা দিতে হয় শ্রমিকদের, সেই টাকাও হাতে নেই, ওদিকে পাট পানিতে বেশি দিন থাকার ফলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তাই এলাকায় বলে ঘোষণা দিছি যে পারেন পাট ধুয়ে নেন, ফলে তারা ধুয়ে পাটখড়ি নিচ্ছেন আর পাটের আশ রেখে যাচ্ছেন।
একই গ্রামের শাহাজামাল হোসেন বলেন, পাটের বীজ ফেলার পর নিলানী খরচ, কাটা খরচ, পরিবহন খরচ হিসাব করলেই দেখা যায় পাটের বাজের দামের চেয়ে দুগুণ খরচ হয়েছে, তাই প্রতিবেশিদের বলে দিছি পাট ধুবেন দাম দিতে পারবোনা, শিভা (পাটখড়ি) নিবেন পাট দিবেন, এবার আবাদ করে ঘরের চুলা ধরানোর মতো শিভা নেই বাড়িতে, সামনে এই আবাদ করা যাবে না।
পাটের চাষাবাদ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) সৈয়দা সিফাত জাহান বলেন, চলতি বছরে ৩হাজার ৯শত ৯৫হেক্টর জমি আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদন হওয়ায় আশা রয়েছে ৯৫৪৮ মেঃটন, যা গত বছরে ৪০৮৩ হেক্টর জমিতে ৯৭১৮ মেঃটন উৎপাদন হয়েছিল।
Leave a Reply