ঢাকাশুক্রবার , ৫ আগস্ট ২০২২
সর্বশেষ সংবাদ

বগুড়া শেরপুরে গভীর রাতে নিয়মিত লোডশেডিং নানা সমস্যায় জনসাধারণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: বগুড়া।
আগস্ট ৫, ২০২২ ৯:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বগুড়া শেরপুরে গভীর রাতে চলছে নিয়মিত লোডশেডিং। বিব্রতকর এই লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ প‍ৌরবাসী।
শেরপুর উপজেলায় দৈনিক লোডশেডিং এর তথ‍্য অনুযায়ী এলাকা ভিত্তিক সকাল থেকে দুপুর ১২ টার মধ্যে ১ ঘন্টা এবং সন্ধ্যা থেকে রাত্রি ১০ টার মধ্যে ১ঘন্টা প্রতিদিন ২ ঘন্টা করে লোডশেডিং নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিঃ (নেসকো)
এসব নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গভীর রাতে চলছে নিয়মিত লোডশেডিং। রাতের এই লোডশেডিং এখন সর্বত্র আলোচনায়। অনেকেই বলছে রাতের এই লোডশেডিং
সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সাবটাজ, কেউ বলছে বিব্রতকর আবার অনেকে বলছে যন্ত্রণাদায়ক। এছাড়াও চুরি আতঙ্কে উৎকণ্ঠা পৌরবাসী।
পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডের বাসিন্দা এই প্রতিনিধিকে জানায়, প্রায় প্রতিরাতেই ১টা থেকে ২টার মধ্যে বিদ‍্যুৎ চলে যায়, আর আসে ১ থেকে দেড় ঘন্টা পর। পূণরায় ভোরের দিকে বিদ‍্যুৎ চলে যায় এবারও আসে ১ থেকে দেড় ঘন্টা পর। এভাবেই চলছে গভীর রাতের লোডশেডিং যা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক।
তারা আরও বলেন, কারও বাড়িতে অসুস্থ বৃদ্ধ মা বাবা আছে, আবার কারও বাড়িতে আছে নবজাতক শিশু সন্তান। একদিকে অসহনীয় গরম তার উপর গভীর রাতে লোডশেডিং এর ফলে ঘুমের বিঘ্ন ঘটায় বিভিন্ন রকমের অসুস্থতার শিকার হচ্ছে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ নবজাতক শিশু সন্তানেরা।
এছাড়াও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রমের পর গভীর রাতে লোডশেডিং এর জন্য পরিমিত ঘুম না হওয়ায় নানা রকমের শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে তাদের।
তাই মধ্য রাতে লোডশেডিং না দেওয়ার দাবী জানান তারা।
এদিকে বিদ‍্যুৎ অফিস কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বিদ‍্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় এই লোডশেডিং।
অর্থনৈতিক সংকট এড়াতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জ্বালানি বিষয়ক এক বৈঠকে এলাকাভিত্তিক প্রতিদিন পর্যায়ক্রমে দুই ঘন্টা করে লোডশেডিং দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অমান্য করে বগুড়ার শেরপুরে এখনো চলছে দিনে রাতে ৬/৮ ঘন্টা লোডশেডিং।
বিশেষ করে গভীর রাতে লোডশেডিং এর কারণে নানা রকমের সমস্যা তৈরী হচ্ছে সব শ্রেণি পেশার জনসাধারণের,
এ কারণে ভিন্ন ভিন্ন মতবাদ প্রকাশ করছেন তারা। অনেকে বলছেন প্রতিদিন এলাকা ভিত্তিক পর্যায়ক্রমে দুই ঘন্টা করে লোডশেডিং, সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অমান্য করে ঘন ঘন ৬ থেকে ৮ ঘন্টা বিশেষ করে গভীর রাতে লোডশেডিং দেওয়ার কারণ হচ্ছে, সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটা কৌশল। আবার অনেকে এও বলছেন বিদ‍্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো অধিক মুনাফা করতেই বাড়তি লোডশেডিং দিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
আর খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষেরা জানিয়েছে আমরা অত শত বুঝিনা, শুধু মধ‍্য রাতের এই যন্ত্রণাদায়ক লোডশেডিং থেকে মুক্তি চাই। সব শ্রেণি পেশার মানুষের দাবি গভীর রাতের লোডশেডিং থেকে মুক্তি।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো) এর এক্সচেঞ্জ আব্দুল জলিল বলেন, এই উপজেলায় প্রতিদিন বিদ‍্যুতের চাহিদা ২০ মেঘাওয়াড। সেখানে আমরা প্রতিদিন বিদ‍্যুৎ সরবরাহ পাই ১৩ মেঘাওয়াড। যার ফলে এই লোডশেডিং। এখানে আমাদের কিছুই করার নেই বলে জানান তিনি।