ঢাকামঙ্গলবার , ২৪ জানুয়ারি ২০২৩
সর্বশেষ সংবাদ

বগুড়া শেরপুরে অবাধে চলছে নদীর তীর,ধানী জমি ও বিল ধ্বংস, হুমকির মুখে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি:
জানুয়ারি ২৪, ২০২৩ ১০:২০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশ সরকার যেখানে দেশের নদ নদী রক্ষা ও কৃষি ভূমির উন্নয়নের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে, সেখানে তার বিপরীতে কাজ করছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার এক ইউপি চেয়ারম্যান। এতে সরকারের নদী রক্ষার কাজ যেমন হুমকির মধ্যে পড়েছে তেমনি ধংস হচ্ছে আবাদি জমি ও খাল বিল।


সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নেই চলছে সমান তালে মাটি খনন। খামারকান্দি ইউনিয়নের ভাতারিয়া গ্রামের আবাদি জমির ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছেন জৈনক লাভলু , ধানী জমিতে প্রথমে এস্কেভেটর দিয়ে পুকুর খনন পরে এক‌ই ভূমিতে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন যেন তার একটি নেশা, আর এই নেশাতেই কাল হয় আশেপাশের কৃষি জমি , ধসে পড়ে আবাদি কৃষিজমি, লাভবান হয় জৈনক লাভলু , পানির দরে নয় প্রায় শুন্য দরে কিনে নেন ধসে পরা আবাদি জমি, মেতে উঠেন অন্য আরেকটি কৃষিজমি ধ্বংসে।

মির্জাপুর ইউপি চেয়ারম্যান এর নেতৃত্বে তার দোসররা সুঘাট ইউনিয়নের মেছকান্দি গ্রামে বাঙালি নদীর তীরে চালাচ্ছে এস্কেভেটর দিয়ে নদীর তীর ও আবাদি জমি খনন, মির্জাপুর ইউনিয়নের ভীমজানি হিন্দু পাড়া গ্রামে করতোয়া নদীর তীরে ও তৎসংলগ্ন শশ্মান এর জায়গা কেটে নিয়ে যাচ্ছে তারা, ভীমজানি হিন্দুপাড়ার অধিবাসী ও কালীমন্দিরের রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্বে থাকা একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান চেয়ারম্যান ও তার দোসররা অত্যান্ত ক্ষমতাবান আমরা কিছু বলতে পারিনা বললেই আমাদের এলাকা ছাড়া করবে,
সম্প্রতি ইউএনও মহোদয়, উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মাকরখোলা গ্রামে তিনটি এস্কেভেটর জব্দ করেন এবং মির্জাপুর ইউনিয়ন ভুমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা বাদী হয়ে বালুমহাল ও ভূমি ব্যবস্থাপনা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় জব্দকৃত এস্কেভেটরগুলোর এক‌ই জায়গাতেই আইন ও ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শাহবন্দেগি ইউনিয়নের ডিজিটাল উদ্যোক্তা মোঃ কায়েস, দায়িত্বপ্রাপ্ত চৌকিদারকে টাকা দিয়ে রাতের আঁধারে উক্ত জায়গা থেকে মাটি খনন করে যাচ্ছে। এই বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ সাইফ আহমেদ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান উক্ত মামলায় তিনটি এস্কেভেটর জব্দ করা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বাকি আসামিরা অজ্ঞাত ও পলাতক রয়েছেন মামলার তদন্ত স্বার্থে সব কিছু বলা যাবেনা।

 

এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহি অফিসারের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, বালু মহাল ও ভূমি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে যা চলমান রয়েছে।