ঢাকাশুক্রবার , ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১
সর্বশেষ সংবাদ

উখিয়ায় স্থানীয়দের ভোগ দখলীয় জমি দখল করে রোহিঙ্গাদের ঘর নির্মাণের পাঁইতারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২১ ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মারজান আহম্মেদ চৌধুরী

উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালি ১১ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৩০ বছর ভোগদখলীয় সমাজিক বনায়নের বনভূমি জমি সি আই সি মিসবাহ উল আলম (ভূইয়া) জুর পূর্বক দখল করে রোহিঙ্গাদেরকে ঘর করে দেয়ার পাঁই তারা করার অভিযোগ উঠেছে । কিছু কিছূ এনজিও ও আইএনজিও স্থানীয় জমির মালিকদেরকে তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন স্থানে বনভূমি থেকে শুরু করে জোত জমি দখলের মহোৎসবে নেমেছে। বি ডি আরসি নামের একটি এনজিও সংস্থা উখিয়ার থাইংখালী ঘোনার পাড়া ক্যাম্প ১১তে স্থানীয় ফরিদ আলমের স্ত্রী আমিনা (৪৫) ৩০ বছরের ভোগদখলী সমাজিক বনায়নের ৫ একর ৪০ শতক জমি থেকে প্রায় ৪ একর ৬০ শতক জমি রোহিঙ্গা আশার পর দখল করে ঘর সহ স্থাপনা নির্মাণ করে এনজিও’রা।

উখিয়ায় স্থানীয়দের ভোগ দখলীয় জমি দখল করে রোহিঙ্গাদের ঘর নির্মাণের পাঁইতারা।

বাকি জমির মধ্যে জমির মালিক আমিনা বেগম কলা বাগান করে অসহায়ত্বে দিন যাপন করে আসছে। ভুক্তভোগী জমির মালিক আমিনা বেগম (৪৫) ১৮ ফেব্রুয়ারী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাশন কমিশন (আর আর সি)কক্সবাজার বরাবরে এতে ১, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ২,মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, মাননীয় মহাপরিদর্শক পুলিশ হেডকোয়ার্টার, বিভাগীয় পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার কক্সবাজার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উখিয়া, অফিসার ইনচার্জ উখিয়া, চেয়ারম্যান পালংখালী ইউনিয়ন, উপজেলা প্রেসক্লাব উখিয়া সহ অনুলিপি প্রধান করেছেন। জানা গেছে, এদেশে পালিয়ে এসে উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নিয়েছে ৭লাখের বেশির রোহিঙ্গা রোহিঙ্গা। তৎমধ্যে বেশির ভাগ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে উখিয়ার ২০টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। আগে থেকে রয়েছে ৪লাখ। সব মিলিয়ে বর্তমানে ১১লাখ রোহিঙ্গার বসবাস উখিয়া-টেকনাফে। এসব রোহিঙ্গাদের মানবিক সেবার নামে কর্মরত রয়েছে ২শতাধিক এনজিও। উক্ত এনজিও গুলোর বিরুদ্ধে শুরু থেকে নানান অভিযোগ উঠে আসলেও মানবতার খাতিরে কেউ কোন দিন প্রতিবাদ করেনি। কিন্তু রাহাই পাচ্ছেনা খতিয়ানভুক্ত জোত জমিও জবর দখল করে রোহিঙ্গাদের জন্য স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে কেয়ার বাংলাদেশ নামে একটি এনজিও সংস্থার বিরুদ্ধে। জামতলীস্থ শফিউল্যা কাটা ক্যাম্প-১৬তে এঘটনা ঘটেছে। এসময় ‘কেয়ার’ তাদের নিজস্ব ভলান্টিয়ার দিয়ে দুটি বসতঘর জোর পূর্বক উচ্ছেদ করেছে এবং জমির মালিকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। উক্ত জমির মালিক গুলজার বেগম (৩৭) এবং দিলদার বেগম (৩৫) নামের দুই বোন। ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত ওই ২ নারীর সেখানে ৪০ শতক জমি রয়েছে। আবু বক্করের ভিটা নামে পরিচিত এই জমিতে এই ২ নারী দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে। গুলজার এবং দিলদার এরা দুজনেই মূলত আবু বক্বরের ওয়ারিশদার। যার খতিয়ান নাম্বার ১৩০,পালংখালী মৌজা এবং জে.এল নাম্বার-১৩। নথি যাচাই করে দেখা গেছে, তারা সর্বশেষ গত ২০১৭ সালেও উক্ত জমির বিপরীতে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করেছে। ভুক্তভোগী দুই বোন জানিয়েছে, কেয়ার বাংলাদেশ নামে একটি এনজিও প্রতিষ্ঠান তাদের খতিয়ানভূক্ত নিজস্ব জমিটির দিকে কুনজর দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২২ অক্টোবর জোর পূর্বক ক্ষমতা প্রদর্শন করে কেয়ার বাংলাদেশ তাদের নিজেদের ভলান্টিয়ার দিয়ে দীর্ঘদিনের দুটি বসতঘর গুড়িয়ে দিয়ে জায়গাটি তাদের দখলে নেয় এবং সেখানে তারা রোহিঙ্গাদের জন্য শেড নিমার্ণ শুরু করে। আমরা এ নিয়ে তৎকালীন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরীকে লিখিত অভিযোগ জানালেন ইউএনও উক্ত এনজিও সংস্থার লোকজনকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়ার পরেও কাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন কতিপয় এনজিও গুলো। স্থানীয় হোস্ট কমিউনিউটির সভাপতি মোহাম্মদ আলম জানান , স্থানীয়দের ভোগদখলীয় ও জোত জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি সত্য। এ বিষয়ে অফিস চলাকালীন সি আই সি অফিসে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি অফিস থেকে নাম্বার নিয়ে একাদিক বার ফোন করা হলে ফোন বন্ধ থাকার কারনে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরাসরি নিদের্শনা রয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পূর্বের যে সমস্ত স্থাপনা রয়েছে তা সংস্কার, মেরামত ছাড়া নতুন করে স্থাপনা তৈরী করা যাবেনা।